সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, আনসার কিংবা ব্যাটালিয়ন আনসার—দেশের কোনো বাহিনীর নামই বাকি রাখেননি রুবেল চাকমা (৩৫)। নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, কখনো পুলিশ বা আনসার বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। অবশেষে রাঙামাটি ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যদের হাতে ধরা পড়েছে এই চতুর প্রতারক।
সূত্র জানায়, রুবেল চাকমা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে নিজেকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনো চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে, কখনো পছন্দের পোস্টিংয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি বেকার যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। তার মূল টার্গেট ছিল গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবার, যারা চাকরির আশায় শেষ সম্বল বিক্রি করে দিতেও রাজি থাকে।
রুবেল ভুয়া নিয়োগপত্র, ভুয়া প্রশিক্ষণ কার্ড, এমনকি বাহিনীর জাল আইডি কার্ড ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জন করতেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় রাঙামাটি ব্যাটালিয়ন আনসার সদর দফতর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।
গতকাল (২৯ জুলাই) দুপুরে রাঙামাটির রাজবন বিহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ব্যাটালিয়ন আনসার। এসময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু ভুয়া কাগজপত্র, বিভিন্ন বাহিনীর আইডি কার্ডের কপি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আনসার বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, “আমরা অনেকদিন ধরেই তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। অবশেষে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করি।

রুবেল চাকমার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে রাঙামাটি সদর থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজই তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, রুবেল চাকমা এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের অপরাধে আটক হয়েছিলেন, কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর গলে বারবার ছাড়া পেয়ে যান। এবার তার প্রতারণার বিস্তৃতি এবং সংগ্রহ করা প্রমাণ এতটাই সুস্পষ্ট যে, আইনের কঠোর শাস্তি থেকে বাঁচা কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।