নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর পুলিশের হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি ছয় জন এখনও চিকিৎসারত। তারা হলেন- জাকারিয়া (৪৯), জয়দেব (৪০), তন্ময় (৩২), আব্দুল হান্নান (৪৫), আব্দুল আউয়াল (৪০) ও মালেক (৪০)। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য জানান। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ করেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা যমুনা অভিমুখে রওনা হন। পরে তারা যমুনার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভরতদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছোঁড়ে। রমনা বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আমরা সতর্ক রয়েছি। আইনশৃঙ্খলার যেন কোনও অবনতি না ঘটে। আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছি তারা যেন এখান থেকে অন্যত্র চলে যান। পরে দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেডের কারণে যমুনার সামনে থেকে সরে যান পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে যমুনার সামনে সারা দেশ থেকে আগত আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। জানা গেছে, নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে পূর্ব ঘোষণার কর্মসূচি হিসেবে সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী শহীদ মিনারে একত্রিত হন। সকাল ১১টার দিকে তারা ঘোষণা দিয়ে যমুনার অভিমুখে রওনা হন। শাহবাগে মোড়ে আসতেই তারা প্রথম বাধার মুখে পড়েন। বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান করলেও সেখানে তারা লাঠিচার্জ করেনি। এ সময় পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে চলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা বসে পড়েন এবং নানা স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর সেখানে আসেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। আসেন বিজিবি সদস্যরাও। এরপর থেকে মূলত সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা অনুরোধ না রাখলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বারবার জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের তোপের মুখে রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে যায়। পুলিশ সেখানে গিয়েও তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপি এভাবে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার পরপর পুলিশ ব্যাপক মারমুখি হয়ে উঠে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় সঙ্গে টিয়ারশেলও। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলকারী আহতও হন। জানা গেছে, এ সময় পুলিশ সেখান থেকে ৪-৫ জন আন্দেলনকারীকে আটকও করে । এর মধ্যে একজন নারায়নগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর থেকে আসা। শাহাদাৎ নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা পুলিশ হামলার নিন্দা জানাই। আমাদের ন্যায্য আন্দোলন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে কমিশন সবকিছু পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে কমিশন। এখন শুধু গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশ নিয়ে বর্তমান সরকার নানা টালবাহনা করছে। কয়েকদিন পর নির্বাচন। নির্বাচনের পর যে সরকার আসবে তারা এটি দীর্ঘায়িত করবে। তিনি আরও বলেন, আজ পুলিশ হামলা করলো, তারাও এই পে-স্কেলের সুবিধাভোগী হবে। আমরা শুধু আমাদের জন্য নয়, সব সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যই আন্দোলন করছি।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আমরা আন্দোলনকারী বর্তমানে সরিয়ে দিয়েছি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকজন আটকও করেছি।