এস.এম.ইমদাদুল হক মিলন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি একটি আসনে জামায়াত জোট থেকে জয় পেয়েছেন এনসিপির প্রার্থী। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির এই ফল ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ : নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ইমদাদুল্লাহ হাসেমী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ : নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ১৮ হাজার ৯৩৩ ভোট পান। এই আসনে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ : নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন। ফুটবল প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট। এই আসনে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেজুর গাছ প্রতীকে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া হরিণ প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. শাহ আলম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৫ : নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের খেলাফতে মজলিশের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে মাকসুদ হোসেন ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রসঙ্গত, জেলার পাঁচটি আসনে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।