নারায়ণগঞ্জে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের দায়িত্ব পালনের নামে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার অফিসার আজিজুল হাকিম, একাধিক দলনেতা এবং তাদের কর্মকান্ডে সরাসরি আশ্রয় ও সুরক্ষা দিচ্ছেন জেলা কমান্ড্যান্ট কানিজ ফারজানা শান্তা। গোপন সূত্রে জানা গেছে, ভিডিপি সদস্যদের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বিশেষ করে পূজা, নির্বাচন, রেল ও বিশেষ নিরাপত্তা ডিউটির নাম করে সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে নিয়মিত উৎকোচ আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সদর উপজেলার দলনেতা হযরত আলী খান, সেলিম খন্দকার, মোস্তফা কামালসহ বন্দর উপজেলার আরও কয়েকজন দলনেতা এ ঘুষ বাণিজ্যে সরাসরি জড়িত। ভুক্তভোগী সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, হযরত আলী খান শারদীয় পূজার ডিউটির কথা বলে সদস্যপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করেছেন। একইভাবে নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দলনেতারা সদস্যদের প্রকাশ্যে বলে থাকেন, তোরা তো ৮ হাজার ১০ হাজার টাকা বেতন পাবি, সেটা কি আমাদের দিবি? ৫০০-১০০০ টাকা তো আমাদের লস বেটা।
এভাবেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মতো স্পর্শকাতর কাজে ঘুষকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ রয়েছে, যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাজিরা খাতায় নাম না তোলা, বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া এবং অযৌক্তিকভাবে ডিউটি বাতিল করার মতো ঘটনাও ঘটছে। রেল দায়িত্ব পালনের একটি ঘটনায় মোঃ ইয়াকুব হোসেন নামে এক ভিডিপি সদস্যের সঙ্গে চরম অবিচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, তিনি কঠোর ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও ঘুষ না দেওয়ায় তার নাম হাজিরা খাতায় প্রকাশ করা হয়নি।
পরে নানা অজুহাতে তার ৭ হাজার টাকা বেতনের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং বাকি ২ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই অর্থ আত্মসাতে জেলা কমান্ড্যান্ট কানিজ ফারজানা শান্তার সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। গোপন সূত্র আরও জানায়, দলনেতাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের একাধিক তথ্যপ্রমাণ জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে পৌঁছালেও তিনি কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। বরং যারা অভিযোগ করেছেন, তাদেরই হেনস্তা করা হয়েছে। সম্প্রতি হযরত আলী খানের ঘুষ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও জেলা কমান্ড্যান্টের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, জেলা কমান্ড্যান্ট নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং ব্যক্তিগত ‘ইগো’ ও প্রভাব খাটিয়ে পুরো দুর্নীতির চক্রকে রক্ষা করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আনসার-ভিডিপির মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীতে চলমান এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।