নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দশ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সাতটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (তথ্য প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত) বরাবরে তথ্য অধিকার আইনে উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বছর নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দিনের আলো পত্রিকার পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্ধারিত ফরম পূরন করে তথ্যপ্রাপ্তির ঐ আবেদন করা হয়েছিল।
আবেদনে উপজেলার মাহমুদপুর, ফতেপুর, ব্রাহ্মনদী, বিশনন্দি, কালাপাহাড়িয়া, উচিৎপুরা এবং হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৩-২৪ সাল অর্থ বছরের গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন টি.আর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের নামের তালিকা, ভূমি হস্তান্তর কর ১% এর প্রকল্প তালিকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক হোল্ডিং টেক্স আদায় ও ব্যয়ের তালিকাসহ বেশকিছু তথ্য চাওয়া হয়।
তবে আবেদন জমা দেওয়ার পরের মাসে, জেলাজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের রদবদলের অংশ হিসেবে আড়াইহাজার উপজেলার ইউপি সচিবদের প্রত্যেকেই অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এরপর সাবেক ও বর্তমান সচিবদের সাথে যোগাযোগের দুইমাস সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও তাদের প্রত্যেকেই বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য প্রদানে গড়িমসি করে যাচ্ছেন।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বশির আহমেদ তথ্যগুলো কি কাজে ব্যবহার করা হবে তা এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, আপনাদের চাহিত তথ্য ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছিল। আপনাদের ঠিকানা ভূয়া হওয়ার কারনে তথ্যগুলো আবার আমার কাছে ফেরত এসেছে। যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তথ্যগুলো প্রতিবেদকের বাসা নাকি অফিসের ঠিকানায় দেওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি। পরে তথ্যগুলো ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করার অনুরোধ করা হলে তিনি তাতে রাজি হননি।
এদিকে হাইজাদী এবং উচিৎপুরা ইউনিয়নের বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দিদার হোসেন। তিনি সাংবাদিককে বলেন, আপনারা যেই তথ্য চেয়েছেন আগের সচিব আমার কাছে সেই কপি এবং ফাইল কিছুই বুঝিয়ে দিয়ে যায় নাই। আমি কিভাবে তথ্য দিব, আপনি সাবেক সচিবের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে নেন। পরবর্তীতে অনলাইন যোগাযোগ প্লাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য প্রাপ্তির আবেদনের রিসিভ কপি তাকে পাঠানো হলে তিনি তার উত্তর জানাননি। এ বিষয়ে উচিৎপুরা ইউনিয়নের সাবেক সচিব জোবায়ের বলেছেন, আমি পরিষদের অফিসে তথ্যগুলো রেডি করে রেখে এসেছি।
অন্যদিকে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আওলাদ বলেন, আমি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলেছি। তিনি (চেয়ারম্যান) বলেন, যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য চাওয়া হয়েছে সেইগুলো উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে আছে। আমি তাদের সাথে কথা বলব।
এই বিষয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক বলেন, তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান না করা আইন লঙ্গনের শামিল এবং এতে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তথ্য না পাওয়ায় শীঘ্রই উপজেলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা হবে। এরপরও তথ্য না পেলে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং দূর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের বহুল প্রচারিত পত্রিকা দৈনিক ‘আজকের নীরবাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক এস.এম.ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের কিছুসংখ্যক অসাধু আমলার কারণে সব সময় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কখনও সচেতন মহলের কাম্য হতে পারে না।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘বিশেষ সংবাদ’র সম্পাদক ও প্রকাশক সায়েদুল ইসলাম বাদল বলেন, এ ব্যাপারে সকল তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে একযোগে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ না করলে সরকারি আমলারা কখনো সোজা হয় না। তিনি সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

