পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন পরেই পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। তালা খুলে দেওয়ার পর বক্তব্যও দিয়েছেন ওই নেতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পক্ষে-বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনার মানুষেরা এটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার পরিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা। ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট বক্তব্য দিচ্ছেন। তাকে বলতে শোনা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান প্রথমে যে কাজটি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালামুক্ত অবমুক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, যারা এই দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের প্রতিটি দলকে নিশ্চিহ্ন করার চিন্তা-ভাবনা করে বাড়িতে, অফিসে হামলা করে বন্ধ করে রেখেছিল, সেই অফিস আজকে প্রথমেই তিনি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস অবমুক্ত করলেন। আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ওনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে আগামী দিনে যে কোনো মিছিল, মিটিং, আন্দোলন, সংগ্রাম স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা-না আওয়ামী লীগ, না বিএনপি, না জাতীয় পার্টি-সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিপক্ষে থাকব এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করব। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, সেখান থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয়-এই অনুরোধ জানাচ্ছি আমার মামা আবু দাউদ প্রধানের কাছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জামান স্বপনকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরাজিত শক্তিকে আবারও নস্যাৎ করব। দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই এলাকায় থাকতে চাই। বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, কিছুক্ষণ আগে আমি জানলাম আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দেওয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার উভয়পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যার কারণে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি সারা বাংলাদেশে। আমি উভয় দলের নেতাকর্মীদের বলব, প্রত্যেক দলে কমবেশি দুষ্ট প্রকৃতির লোক আছে। তাদের দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ আছে আমাদের। কোনো অবস্থাতেই আমাদের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা কেউ যেন ভঙ্গ করতে না পারে। আওয়ামী লীগের ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক আপনারা। আপনারা কোনো প্রকার অন্যায় করবেন না। আপনাদের গায়ে কেউ যদি কোনো আচড় দেয়, আমাকে জানাবেন। কোনো অন্যায়কারীকে আমি প্রশ্রয় দেব না। এ বিষয়ে জানতে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এই অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসে আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বসব। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না। এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ না করে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্যই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়েছি। এর আগে জামায়াত এই অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। সবশেষে জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তাদের দাবি-বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।

